চট্টগ্রাম আদালত এলাকা

আপডেট: ২ জানুয়ারী ২০২৫, ৫:০৭ এএম

চট্টগ্রাম আদালত এলাকা, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরীর পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত এই এলাকাটি ঐতিহাসিক ভবন, আধুনিক অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য পরিচিত। চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রেজিস্ট্রি অফিস এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অফিসসহ ৭৬টিরও বেশি আদালত এখানে অবস্থিত।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৭৩ সালে চট্টগ্রামকে পৃথক প্রশাসনিক অঞ্চল ঘোষণা করার পর প্রশাসনিক কাজের জন্য একটি দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। পরবর্তীতে, ১৮৯২-৯৮ সালের মধ্যে, ইন্দো-ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলীতে বর্তমান আদালত ভবনটি নির্মিত হয়। এই ভবনটি ইউরোপীয় ও মুগল স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব সমন্বয়। পুরাতন ভবনের স্থান সংকুলানের অভাবে এর পাশেই সম্প্রতি একটি নতুন আদালত ভবন নির্মিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম আদালত এলাকাটি শুধুমাত্র আইন ও প্রশাসনের কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও পরিচিত। বহু ঐতিহাসিক ঘটনা, আন্দোলন এবং জনসংযোগের সাক্ষী এই এলাকা। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এখানে ইসকন সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে একজন আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনা সংঘটিত হয়, যা দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই ঘটনায় বহু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বর্তমানে, আদালত এলাকায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হিসেবে ‘আমার আদালত’ অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীরা ঘরে বসেই মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারছেন। তবে, এই সুবিধার প্রচার-প্রচারণা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম আদালত এলাকা বহু মানুষের জীবনের সাথে জড়িত, এবং এই এলাকার অবকাঠামো ও সেবা উন্নয়নে ক্রমাগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মূল তথ্যাবলী:

  • চট্টগ্রাম আদালত এলাকা পরীর পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত।
  • এখানে ৭৬টির অধিক আদালত রয়েছে।
  • ১৮৯২-৯৮ সালে ইন্দো-ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ঐতিহাসিক ভবন।
  • ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসকন সমর্থকদের সংঘর্ষে এক আইনজীবীর মৃত্যু ঘটে।
  • ‘আমার আদালত’ অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে মামলার তথ্য পাওয়া যায়।

একই নামে একাধিক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও স্থান থাকতে পারে। সুনির্দিষ্টভাবে জানতে সংবাদ লিংকে প্রবেশ করুন।