রাণীনগর উপজেলা নওগাঁ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা, যা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ। ২৫৮.৩৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলাটি নওগাঁ জেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত। উত্তরে নওগাঁ সদর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা, দক্ষিণে আত্রাই, পূর্বে বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও নাটোরের সিংড়া, এবং পশ্চিমে মান্দা উপজেলা।
রাণীনগরের নামকরণের দুটি প্রচলিত কাহিনী আছে। প্রথমটিতে বলা হয়, এগারো-বারো শতকে পাল বংশের পরাক্রমশালী জমিদার খট্টেশ্বর রাজার রাণীর সম্মানার্থে এই স্থানের নামকরণ হয় 'রাণীনগর'। দ্বিতীয় কাহিনীতে বলা হয়, নাটোরের রাণী ভবানী শংকরের যাত্রার বিরতিস্থলে এটির নাম রাণীনগর হয়। ইংরেজ সেটেলমেন্ট রেকর্ডেও এ অঞ্চলের নাম 'খট্টেশ্বর' ও 'রাণীনগর' উল্লেখ করা হয়েছে।
১৮৫৬ সালে 'রাণীনগর' থানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯১৬ সালে উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালের ১লা আগস্ট উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, উপজেলার জনসংখ্যা ১,৮৪,৯০০; এর মধ্যে ৯৪,১০০ পুরুষ এবং ৯০,৮০০ মহিলা। মুসলমান ৮৬.৬%, হিন্দু ১৩% এবং অন্যান্য ০.৪%। শিক্ষার হার ৪৭.৭%। এখানে ৪টি কলেজ, ১৬টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৫টি মাদ্রাসা রয়েছে।
রাণীনগরের প্রধান নদী ছোট যমুনা। পূর্ব সীমানায় বয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী নাগর নদ, যে নদীকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
কবিতাটি রচনা করেছিলেন। উপজেলার অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। এখানে বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন হয়। ছোট যমুনা নদী উপজেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই উপজেলায় কিছু প্রাচীন স্থাপত্যের অবশেষও পাওয়া যায়, যেমন একডালা ইউনিয়নের রাজাপুর ও কালীগ্রাম গ্রামে ধ্বংসপ্রাপ্ত রাজবাড়ীর নিদর্শন। কাশিমপুরেও রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ আছে। রাণীনগরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের বিষয়গুলো সম্পর্কে আরও গবেষণার প্রয়োজন। আশা করি ভবিষ্যতে আরও তথ্য যোগ করে এই লেখা সম্পূর্ণ করা যাবে।