বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো জিএসটি (GST) বা সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা। ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই ব্যবস্থা শুরু হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে একক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করা।
প্রথম বছরে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীতে আরও বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয় এবং বর্তমানে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় জিএসটির আওতায় রয়েছে। ২০২১ সালে প্রথম জিএসটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিবছরই লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে ৩,০৫,৩৪৬ জন শিক্ষার্থী জিএসটি ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিল।
জিএসটি পরীক্ষার বাইরে কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়। এছাড়াও স্বাধীনতা-পূর্ব প্রতিষ্ঠিত কিছু স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েট এই গুচ্ছ প্রক্রিয়ার বাইরে। তবে সরকারের একক ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ অব্যাহত আছে।
জিএসটি পরীক্ষা বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন ইউনিট (A, B, C) অনুযায়ী বিষয় ও মান বন্টন নির্ধারিত থাকে। এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট GPA এর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ইউনিটে আবেদন করতে পারে। জিএসটির যোগ্যতা অনুসারে উত্তীর্ণরা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারে এবং ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তাদের ভর্তি নিশ্চিত হয়।
জিএসটি পরীক্ষা সারা বাংলাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে।