বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট এলাকায় অবস্থিত শুঁটকি পল্লীটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। প্রতিবছর শীত মৌসুমে, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত, এখানে শুঁটকি উৎপাদনের কাজ চলে। দেশের বিভিন্ন জেলার শ্রমিকরা এখানে কাজ করতে আসেন। ফকিরহাটের পাশাপাশি আশারচর, সোনাকাটা, জয়ালভাঙ্গা, মরানিদ্রা এলাকায়ও শুঁটকি উৎপাদন হয়। সাগর ও নদী থেকে ধরা পড়া প্রায় ২৫ প্রজাতির মাছ, যেমন রুপচাঁদা, ছুরি, কোরাল, সুরমা, লইট্টা, পোপা ইত্যাদি দিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। শ্রমিকরা অস্থায়ী ছোট ছোট ঘরে থাকেন এবং কাজ করেন। শুঁটকি উৎপাদনে প্রায় দুই থেকে তিনশ শ্রমিক জড়িত।
এই শুঁটকি পল্লীতে অনেক সমস্যা রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা। পয়ঃনিষ্কাশন এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। টয়লেটের স্থায়ী ব্যবস্থা নেই, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য। এই অবস্থায় শ্রমিকরা নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হন। শুঁটকি মৌসুমে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১৫০ মণ শুঁটকি চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর, খুলনা, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শুঁটকি পল্লীতে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো অথবা এলজিইডির মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। শুঁটকি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।