ইউরো ট্রেন যাত্রা: একটি বিতর্কিত অভিজ্ঞতা
২০২৪ সালের ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সময় জার্মানির রেল পরিবহন ব্যবস্থা, ডয়চে বান, তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দল এবং দর্শকদের জন্য ট্রেনে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়মিতভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা, ট্রেনের দেরি, বাতিল এবং অত্যধিক ভিড়ের কারণে যাত্রীদের তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
ডয়চে বান-এর দূরপাল্লার যাত্রা ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য মিশায়েল পেটারসন স্বীকার করেছেন যে, সম্প্রতি ডয়চে বান প্রত্যাশিত মান ধরে রাখতে পারছে না। তিনি জানিয়েছেন যে, ইউরো ২০২৪-এর সময় ৫০ লাখ যাত্রীকে সেবা দিচ্ছে ডয়চে বান-এর ১ লাখ ৫০ হাজার কর্মী। কিন্তু কার্যকর পরিষেবা নিশ্চিত করতে তাদের কাজ যথেষ্ট হয়নি।
নেদারল্যান্ডসের কোচ রোনাল্ড কোমান ডয়চে বানের সেবার মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অতীতে ডয়চে বান-এর সেবা এত ভালো ছিল যে তিনি ব্যক্তিগত বিমানের পরিবর্তে ট্রেনে ভ্রমণ করতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি 'ভীতিকর' বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
জার্মানির সাবেক অধিনায়ক ফিলিপ লামও ডয়চে বানের দুর্দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জার্মানির পরিকাঠামো উন্নয়নে জাতিগত ব্যর্থতার কথা বলেছেন।
ইউরো ২০২৪-এর ম্যাচ দেখতে যাওয়া দর্শকদের অনেকেরই ট্রেনে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। অনেকেই ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে স্টেশনে পৌঁছেছেন। অস্ট্রিয়ার এক চ্যানেল তুলে ধরেছে ইউরোর ম্যাচ দেখার জন্য ট্রেনে উঠে বারবার থামা এবং থেমে চলতে প্রায় ভুলে যাওয়া ট্রেনের প্রতি অস্ট্রিয়ার সমর্থকদের বিরক্তি। অন্যান্য চ্যানেলে ডাচ সমর্থকদের বার্লিন ট্রেন স্টেশনে অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস এক ফিচারে লিখেছে, 'জার্মানিতে টুর্নামেন্ট চলে মসৃণভাবে, তবে ট্রেন চলে না।' ডয়চে বান-এর দুর্বল পরিষেবা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ ও মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনার ফলে জার্মানির রেল পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।