ফরিদপুর শহর: ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বর্তমান
বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর জেলার সদর শহর হল ফরিদপুর। দক্ষিণ-পশ্চিম মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এই শহরটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুমার নদীর তীরে অবস্থিত ফরিদপুর শহরের আয়তন ৬৬.৩১ বর্গকিলোমিটার এবং ২০২২ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী জনসংখ্যা ২,৩৭,২৬৬।
ঐতিহাসিক পরিচিতি:
প্রাচীনকালে ফতেহাবাদ নামে পরিচিত এই শহরটির নামকরণ হয়েছে প্রখ্যাত সুফি সাধক শাহ ফরিদ (শেখ ফরিদুদ্দিন)-এর নামানুসারে। পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরুতে সুলতান জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ এখানে একটি টাঁকশাল স্থাপন করেন। মুঘল আমলে ‘আইন-ই-আকবরী’তে এটি ‘হাওয়েলি মহল ফতেহাবাদ’ নামে উল্লেখিত। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ছিল ফতেহাবাদ। এখানে গুরুত্বপূর্ণ মুঘল কর্মকর্তারা বসবাস করতেন। ১৭৮৬ সালে ব্রিটিশরা ফরিদপুর জেলা প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৬৯ সালে ফরিদপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুর তীব্র লড়াইয়ের সাক্ষী হয়। বিখ্যাত মধ্যযুগীয় কবি আলাওল ফরিদপুরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রগতিশীল সংস্কৃতি, সাহিত্য ও নাট্যজগতের পথিকৃৎ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষক - নাট্যগুরু নূরুল মোমেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার বুরাইচ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
সংস্কৃতি ও লোকশিল্প:
ফরিদপুরের লোকসংস্কৃতি সমৃদ্ধ। লোকগীতি, লোকসংগীত, পল্লীগীতি, বাউলগানের জন্য এটি বিখ্যাত। তাইজদ্দিন ফকির, দেওয়ান মোহন, দরবেশ কেতারদি শাহ, ফকির তীনু শাহ প্রমুখ লোককবি ও চারণ কবিদের এখানেই লালন করা হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ:
ফরিদপুর ঢাকা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পদ্মা নদীর কাছে অবস্থিত হওয়ায় এর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জেলা শহরের সাথে উন্নত সড়ক যোগাযোগ বিদ্যমান। প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর সাথে ফরিদপুর শহরের যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।
অর্থনীতি:
ফরিদপুর শহর দক্ষিণ বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। কৃষিকার্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ছোটোখাটো শিল্প এখানকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
বর্তমান:
ফরিদপুর শহরের উন্নয়ন অব্যাহত আছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য নাগরিক সুযোগ সুবিধার উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। ফরিদপুর সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।